টগর ক্যাবল থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ, তবে…

সহজ শর্তে, স্বাশ্রয়ে এবং জিরো ক্যপেক্স-এ অপেক্ষাকৃত উন্নত প্রযুক্তি (লো-ল্যাটেন্সি, হাই-ক্যাপাসিটি) ব্যবহার করে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে আসছেন সুনিল টগর বহুদিন ধরে। এটি অবশ্যই ব্যবসায়িক উদ্যোগ – চ্যারিটি নয়, তাই ভাল-মন্দ বিচার করেই এগুতে হবে। কিন্তু তিনি কি অফার করছেন, কিভাবে এটি বাস্তবায়ন করবেন, সেসব জানতে আমাদের এত অনিহা কেন? টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির একজন অভিজ্ঞ বক্তিকে এমন নির্লজ্জভাবে উপেক্ষা করার অর্থ কি?

গতমাসে দুবাইয়ে আগ্রহী দেশগুলোর প্রতিনীধিদের নিয়ে একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। খোজ-খবর করে জানা যায় যে বাংলাদেশের একাধিক প্রতিষ্ঠান, এমনকি রেগুলেটর বডি বিটিআরসিকেও যথেষ্ট সময় হাতে রেখে আমন্ত্রন জানানো হয়। কিন্তু, সঠিক সময়ে কেউ সাড়া দেননি। শেষ মুহুর্তে, মিটিংয়ের আগের দিন সমকালে একটি রিপোর্ট আসার সাথে সাথে সবাই নড়েচড়ে বসলেন। কেউ কেউ দুবাই থেকেই দৌড়ে পৌছাতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু তারপর কি হল তা আর জানা গেল না। কেউ যদি গিয়েও থাকেন, তারা কি গুম হয়ে গেলেন না-কি তাও চিন্তার বিষয়।

যা-ই হোক, টগর সাহেবের ব্লগ থেকে যা দেখা বা বোঝা যাচ্ছে, তা খুব সুবিধার নয়। টগর ক্যাবলের সর্বশেষ প্রাপ্ত সংস্করণ থেকে বাংলাদেশ বাদ পড়েছে। শেষ পর্যন্ত কি হয় তা আমাদের সময়োচিত পদক্ষেপের উপর নির্ভর করবে। হয়তো আগামী মিটিংয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরও বাংলাদেশের জন্য পথ খোলা থাকবে, কিন্তু এখন হলে যে সন্মান নিয়ে কাজটা হতো, তা হয়তো হবে না। নিজেদের সন্মানের প্রশ্নে আমরা বরাবরই উদাসীন (পদ্মা সেতু একটি ভাল উদাহরন)।

দুবাইয়ের সেই মিটিংয়ের পর ফলোআপ এবং সম্ভবত চুড়ান্ত মিটিং হতে যাচ্ছে মুম্বইয়ে এই মাসে। এর মধ্যে অনেক কিছু এগিয়ে যাবার পরও বাংলাদেশের প্রশ্নে উত্তরটা একই রয়ে গেল। কেউ যাচ্ছেন না। কেন যাচ্ছেন না তা জানার অধিকার আমরা সবাই নিশ্চয়ই রাখি। বাংলাদেশের কততম সাবমেরিন কেবল কোনটা হবে, কে তৈরি করবে, তা নিয়ে বিতর্ক, যাচাই-বাছাই হতেই পারে। কিন্তু কী কী বিকল্প আছে তা যাচাই করে দেখতে তো সমস্যা থাকার কথা নয়। বরং যদি তা না করা হয়, তাহলে এটি মনে করে নেয়া আমাদের জন্য কোন অপরাধ হবে না যে এর ভিতরে কোন দূর্নীতি বাসা বাঁধছে। দেশের ১৬ কোটি মানুষের সবাই আজ বোঝেন আর না-ই বোঝেন, পদ্মা সেতুর মত সাবমেরিন কেবলও আমাদের জিডিটাল বাংলাদেশের অবকাঠামোগত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এটি নিয়ে খোলাখুলি আলোচনার মাধ্যমে সঠিক ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত গ্রহন অপরিহার্য। মহাসড়কের মত এই অপটিক্যাল কেবল নেটওয়ার্কও আজ বা কাল না চাইতেও সবার নিত্যপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে দেখা দিবে। সময় চলে গেলে অপ্রতুল লেন সংখ্যা বা ক্যাপাসিটি নিয়ে কেঁদেও কুল পাওয়া যাবে না। অতএব, আর বিলম্ব না করে আমাদের যেমন এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন, তেমনি সরকারকেও জনগনের সামনে জবাবদিহীতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না।

বিঃদ্রঃ গতমাসের নাটক দেখে এবার সুনীল টগর স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন “ওয়াক-ইন্স নট এলাওড“। আশা করা যায়, যাদের উদ্দেশ্যে একথা বলা হচ্ছে, তারা এর অর্থ বোঝেন, এবং সময় থাকতে ব্যবস্থা নেবেন।

Leave a Reply