আমাদের দাবিসমূহ

  1. ব্রডব্যন্ডের যে ন্যুনতম গতি ১ এমবিপিএস ঘোষনা করা হয়েছে, তা গ্রাহক পর্যায়ে কার্যকর করার জন্য আশু পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যুনতম এই গতি সময়ে সময়ে সংশোধন করতে হবে।

  2. শুধুমাত্র শহরাঞ্চলে এবং উচ্চবিত্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইন্টারনেট সেবার অধিকার সংরক্ষিত না রেখে নিম্নবিত্ত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর হাতে ইন্টারনেট সেবা পৌছে দেয়ার লক্ষে্য মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষন ও ফলাফলের উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।

  3. বড় পরিসরের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মান সার্বক্ষনিক মনিটরিং-এর আওতায় আনতে হবে এবং যেকোন অনিয়মের ক্ষেত্রে তাৎক্ষনিক সংশোধনমুলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নিয়ন্ত্রন সংস্থার তত্বাবধায়নে বিভিন্ন এলাকায় নিয়জিত ছদ্মগ্রাহক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মনিটরিং-এর কাজটি করতে হবে। অপেক্ষাকৃত ছোট প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের প্রতিকারের জন্য অভিযোগ কেন্দ্র গঠন করতে হবে।

  4. শেয়ার্ড ইন্টারনেট সার্ভিসের জন্য মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ কনটেনশন রেশিও নির্ধারন করে দিতে হবে, এবং ইন্টারনেট প্যাকেজের সাথে তা উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। কনটেনশন রেশিও এবং নেটওয়ার্ক রক্ষনাবেক্ষন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শেয়ার্ড ইন্টারনেট সার্ভিসের সর্বোচ্চ প্রমান মূল্য নির্ধারন করে দিতে হবে।

  5. মোবাইল ও ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী অন্যান্য দেশগুলোর বাজার পর্যবেক্ষন করে, এবং ঘনবসতিপূর্ণ এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীক সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে ডাটা-লিমিটেড প্যাকেজগুলোর সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে দিতে হবে। যেমন, মোবাইল নেটওয়ার্কে প্রতি ১ গিগাবাইট ডাটার সর্বোচ্চ মূল্য ৫০ টাকা, মেয়াদ সর্বনিম্ন ১ মাস ও সর্বনিম্ন গতি ২৫৬ কেবিপিএস নির্ধারন করে দিতে হবে। ওয়াইম্যাক্সে প্রতি ১০ গিগাবাইট ডাটার সর্বোচ্চ মূল্য ২৫০ টাকা ও সর্বনিম্ন গতি ১ এমবিপিএস নির্ধারন করে দিতে হবে।

  6. মোবাইল ডাটা প্যাকেজের জন্য সয়ংক্রিয় নবায়ন প্রাথমিকভাবে বন্ধ রাখার, এবং গ্রাহক চাইলে নিজ থেকে তা চালু বা পুনরায় বন্ধ করার সুযোগ দিতে মোবাইল অপারেটরকে নির্দেশনা দিতে হবে।

  7. তৃণমূল পর্যায়ে তথা পাড়া-মহল্লায় মানমন্মত ও স্বাশ্রয়ী মূল্যে সেবা পৌছে দেয়ার লক্ষে্য এবং প্রতিযোগীতামূলক বাজার সৃষ্টি করতে ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তা সহায়ক নীতি গ্রহন করতে হবে। পাইকারী ব্যান্ডউইথের জন্য এলাকাভিত্তিক মূল্য নির্ধারন করতে হবে যাতে উদ্যোক্তারা বর্তমানে অলাভজনক এলাকাগুলোতে সেবা প্রদানে আগ্রহী ও লাভবান হয়।

  8. শহরাঞ্চলের বাইরে পাইকারী ব্যন্ডউইথ পৌছে দিতে অবিলম্বে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। শুধুমাত্র গুটিকেয়েক বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়াই এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নয়, বরং সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে একটি জাতীয় কনসোর্টিয়াম গঠন করে যথাসম্ভব দ্রুত এই নেটওয়ার্ক চালু করতে হবে।

  9. ট্যাক্স এবং উচ্চমূল্যের লাইসেন্স জটিলতা কাটিয়ে অবিলম্বে সারাদেশে একযোগে সেবা প্রদানে সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে থ্রীজি প্রযুক্তি উন্মুক্ত করে দিতে হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্সের মূল্য কমিয়ে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের সকল দাবী-দাওয়া নিষ্পত্তি করে রেভিনি্যউ শেয়ারিং পদ্ধতিতে সরকারী আয় সমন্বয় করতে হবে।

  10. ছোট শহরগু লোকয়গুলোকে ওয়াইম্যাক্স সেবার আওতায় আনতে সল্পমূল্যে স্থানীয় লাইসেন্স প্রদান করার উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে।

  11. ইন্টারনেটের ফেয়ার ইউজ পলিসির নামে ভোক্তা হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ফেয়ার ইউজ পলিসি কার্যকর করার আগে নিয়ন্ত্রন সংস্থার অনুমোদন নিতে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করতে হবে, এবং ফেয়ার ইউজ পলিসি অতিক্রম করার পরও গ্রাহকের সেবার ন্যুনতম মান নিশ্চিত করতে হবে।

  12. ইন্টারনেট এবং টেলিকমিউনিকেশন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা রোধে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদারকি বিভাগ গঠন করতে হবে, এবং সংগত করানেই উক্ত ক্ষমতার সম্ভব্য অপব্যবহার রোধেও এর সকল কার্যক্রম জনগনের সামনে উন্মুক্ত রাখতে হবে।

  13. বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির অব্যবহৃত ব্যন্ডউইথ অপচয় না করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। বর্তমান ব্যন্ডউইথ গ্রাহকদের মধ্যে যার যার ক্রয়কৃত ব্যন্ডউইথের আনুপাতিক হারে বেস্ট-এফোর্ট বেসিসে এই অব্যবহৃত ব্যন্ডউইথ বন্টন করে দিতে হবে, এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন এই সুবিধা সরাসরি গ্রাহক পর্যায়ে পৌছে।

  14. সাধারন গ্রাহকের সংখ্যা দেখিয়ে বরাদ্ধ নেয়া IPv4 এড্রেস-পুল ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করছে কিনা তা তদারকির আওতায় আনতে হবে। অন্যদিকে, IPv6 এড্রেস-স্পেস এর প্রসার ঘটানোর জন্য সকল পর্যায়ের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। প্রত্যেক গ্রাহকের নিজ নিজ IP এড্রেস থাকলে গ্রাহক নিজে উপকৃত হওয়া ছাড়াও আইনের প্রয়োগ ও অপরাধী চিহ্নিত করা সহজ হবে।

  15. দূর্নীতিসহায়ক ও প্রযুক্তিবিরোধী সেকেলে ভিওআইপি লাইসেন্সিং প্রথা বাতিল করে সাধারন জনগন তথা প্রবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে সাশ্রয়ী ভিওআইপি প্রযুক্তির সুবিধা ফিরিয়ে দিতে হবে।

  16. ইন্টারনেটের কোন সাইটে আপত্তিকর উপাদান, যা ধর্মীয় বা জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত আনতে পারে, তা মোকাবেলা করার জন্য মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার নীতি পরিহার করতে হবে। বরং রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে কাজ করতে হবে। প্রযুক্তিগতভাবে এ সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান সম্ভব নয়, অথবা তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল যা কেবলই গ্রাহকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে থাকবে।

  17. গনমাধ্যমে বিভ্রান্তিমুলক বিজ্ঞাপন দিয়ে মোবাইল এবং ইন্টারনেট গ্রাহকদের প্রতারিত করা বন্ধ করতে হবে। অজস্র প্যাকেজ, এসএমএস কোড, অফার ইত্যাদির মাধ্যমে গ্রাহককে বিভ্রান্ত করার উপর কঠোর নিয়ন্ত্রন আনতে হবে এবং প্যাকেজগুলোর যথাসম্ভব সরলীকরন করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

  18. মোবাইলে এসএমএস এবং সয়ংক্রিয় কলের মাধ্যমে ভোক্তাকে উপদ্রব করা আইন করে বন্ধ করতে হবে। ইলেক্ট্রনিক ইমেইলের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্যে অনাকাঙ্খিত বার্তা প্রেরন (স্প্যামিং) সঙ্গায়িত করতে হবে, এবং ইমেইল, এসএমএস ইত্যাদি সকল মাধ্যমে স্প্যামিং প্রতিরোধে আইন করতে হবে। আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য নিয়ন্ত্রন সংস্থার তত্বাবধানে এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে অভিযোগ-নিষ্পত্তি কেন্দ্র গঠন করতে হবে।

  19. ফ্রিল্যান্সিং ও ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে অবিলম্বে পেপাল সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিকমানের ইলেক্ট্রনিক ব্যাংকিং ও ইকমার্স প্রযুক্তি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে আশু সরকারি উদ্যাগ গ্রহন করতে হবে।

  20. ফ্রিল্যান্স পেশাজীবিদের অর্জিত রেমিটেন্সের বিষয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে, এবং সকল পর্যায়ে ব্যাংক কতৃক ফ্রিল্যান্সারদের হয়রানি করা বন্ধ করতে হবে।

  21. স্থানীয় ইকমার্স গেটওয়ে এবং সিকিউরড সার্টিফিকেট সেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করে তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক ক্ষুদ্র-উদ্যোক্তা সহায়ক নীতি গ্রহন করতে  হবে।

  22. সরাসরি ডট-বিডি-র অধীনে ২য় লেভেলে (এসএলডি) ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন উন্মুক্ত করতে হবে, এবং অনলাইনে ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন ও রিনিউ সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

  23. টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়, নিয়ন্ত্রন সংস্থা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে অবশ্যই দেশপ্রেমিক, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞানী ও হালনাগাদ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তাকে তাদের দ্বায়ীত্ব ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত করতে হবে যাতে টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন সর্বাধিক গুরুত্ব পায়।

Leave a Reply