ইন্টারনেটের দাম কমানো, সস্তায় রপ্তানি এবং আইটি উদ্যোক্তা তৈরি

১. মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনিইদ আহমেদ পলক, সম্প্রতি ইন্টারনেটের দাম কমানো নিয়ে আপনার শুভ উদ্যোগের কথা বিভিন্ন গনমাধ্যম‌‌ থেকে আমরা জানতে পারছি। আমরা বিশ্বাস করি যে আপনি ইউরোপ-আমেরিকায় ইন্টারনেট ব্যান্ডউথের পাইকারী ও খুচরা দামের ধারণা রাখেন। সাথে সাথে আমরা এও আশা করি যে আপনি এই দফায় ইন্টারনেটের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অতীতে বাংলাদেশে কত লক্ষ-হাজার টাকায় ব্যান্ডউথ বিক্রি হয়েছে এবং তার তুলনায় কত কমালেন, এই ধরনের ভোঁতা যুক্তি না দেখিয়ে বরং বর্তমান, ভবিষ্যত ও আন্তর্জাতিক বাজারের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিন। আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে আমরা যারা ফ্রীল্যান্সিং করি, তাদের প্রতিযোগীতা সরাসরি ওসব দেশের সাথে; আমাদের অতীতের সাথে না। অন্যদিকে, আমরা যারা ইন্টারনেটে শিক্ষা-চিকিৎসা-যোগাযোগ ইত্যাদি প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার করি, তাদেরও ক্রয়ক্ষমতা অবশ্যই ইউরোপ-আমেরিকায় জনগনের চেয়ে কম, বেশি না। এসব বিষয় বিবেচনায়‌ নিয়ে আপনিই ভাল বলতে পারবেন, ব্রিটেনের খুচরা বাজারে যদি মাসে ২০ পাউন্ডে ৫০ এমবিপিএস পাওয়া যায়, ফ্রান্সে যদি ৫০ ইউরোতে ১০০ এমবিপিএস পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের দেশে প্রতি এমবিপিএসের দাম কত হওয়া উচিত।

২. আমরা বলতে চাই, জনমতের প্রতিফলন হিসেবে সরকারী হস্তক্ষেপে মূল্য নির্ধারণের ঘটনাগুলো অনেকদিন (কয়েক বছর) পরপর ঘটে। একবার ঘটে গেলে কয়েক বছর তা সেভাবেই থেকে যায়। তাই আপনি এবার যে মূল্য নির্ধারন করতে যাচ্ছেন তা যেন অবশ্যই সময়োপযোগী হয়।

৩. ওদিকে আমরা গত বছর থেকে শুনে আসছি যে ভারতের কাছে বাংলাদেশ বছরে ৮০০০ টাকা দরে (প্রতি এমবিপিএস), অর্থাৎ মাসে ৬৬৬ টাকা দরে ব্যান্ডউথ বিক্রি করার চিন্তা করছে। সে প্রসঙ্গে বলতে চাই, রপ্তানি-বানিজ্য হলে দেশ লাভবান হবে, সে বিষয়ে আমাদের কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন দেশের মানুষের চাহিদা পূরণের পরই তা হয়। আরও লক্ষ্য রাখতে হবে যেন দেশের অভ্যন্তরীন দামের সাথে রপ্তানি মূল্যের সামঞ্জস্য থাকে। যেই পরিমান ব্যান্ডউইথ দেশের মানুষ মাসে ৪৮০০ টাকায় কেনে, সেই পরিমান ব্যান্ডউইথ বিদেশিরা কেন বা কিভাবে ৬৬৬ টাকায় পাবে, তা আমাদের কাছে পরিষ্কার না।

৪. ছোট পরিসরে এমাজনের মত আমাদের দেশেও ক্লাউড-ডাটাসেন্টার তৈরি করতে যা যা প্রয়েজন তার মধ্যে জনবল, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, যন্ত্রাংশ সবই থাকালেও দুটি উপাদানের কমতি আছে। ১) বিদ্যুত, যা সমাধান হওয়ার পথে, এবং ২) সহজলভ্য ব্যান্ডউইথ। আমাদের দেশের অনেক তরুন-যুবক দেশে বসে বিদেশী ডাটাসেন্টারে কাজ করে। বিদেশে এই ইন্ডাস্ট্রিতে সরাসরি কাজ করে দেশে ফেরত এসেছে বা আসতে আগ্রহী এমন মানুষেরও অভাব নেই। কিন্তু আমরা আটকে আছি ওখানেই। ওসব দেশের উদ্যোক্তারা প্রতি এমবিপিএস ১ ডলার বা তারও কমে কিনতে পারে, কিন্তু আমাদের এখানে প্রতি এমবিপিএস এর জন্য আমাদেরকে গুনতে হবে ৬০-১০০ ডলার। এত বড় অসামঞ্জস্য নিয়ে এই ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন উদ্যোক্তার জন্ম নেয়ার কথা আশা করা যায় না। আইটি খাতে উদ্যোক্তা তৈরি করার কথা বলে আপনারা (সরকার) আসলে কি বোঝাতে চান তা পরিষ্কার করুন- সস্তা ডিজিটাল শ্রমিক নাকি প্রকৃত উদ্যোক্তা?

প্রথম প্রকাশ: http://on.fb.me/1i0pedx (fb.com/itcab)

Leave a Reply